April 19, 2026, 5:03 pm

শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হামলা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকার পরও পুলিশ বলছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক!

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার রাণীনগর গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালসহ গত ৩ দিনে অন্তত ২০ টি বাড়ী ঘরে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। এদিকে হামলার আতংকে পুরুষশুণ্য ওই গ্রামে অন্তত ১’শ টি পরিবার। স্থানীয়রা জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামের শফিউদ্দিন জোয়ার্দ্দার ও ইয়ারুস শেখের সমর্থকদের মাঝে বিরোধ চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইয়ারুস শেখের সামাজিক দল থেকে কিছু কর্মী শফিউদ্দিনের দলে যোগদান করে। দল ভারী হওয়ায় ওইদিন রাতেই শফিউদ্দিনের সমর্থকরা ইয়ারুসের সমর্থক সিদ্দিক মোল্লা, লতিফ মোল্লা, তোফাজ্জেল মোল্লা, আসাদুল মোল্লা, সুরাপ মৃধা, নওশের মোল্লা, কালাম মোল্লাসহ ১৫ টি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরবর্তীতে রোববার সকালে গ্রামের ফারুক হোসেন, আব্দুল গণি, মোবারেক বিশ্বাস, সাবু বিশ্বাসের ৪ টি বাড়িসহসহ ৩ দিনে ২০ টি বাড়ীঘর ভাংচুর, লুটপাট করা হয়। এদিকে হামলা আতংকে বাড়ি ছাড়া ইয়ারুসের অনেক সমর্থক। ওই গ্রামের তাসলিমা খাতুন নামের এক গৃহবধু বলেন, প্রায়ই প্রায়ই শফিউদ্দিনের লোকজন আমাদের বাড়ি ভাংচুর করে। বৃহস্পতিবার ওদের সমাজে লোক গেছে। এখন ওদের লোক বেশি তাই আমাদের বাড়ি ভাংচুর করেছে। মারধরের ভয়ে বাড়ির লোকজন পলায়ে আছে। এদিকে দফায় দফায় বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুরের ঘটনার পর এলাকায় থমে থমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রæতই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে এমনটি আশা করছেন তারা। এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার এস আই শামীম বলেন, সে দিন আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একটু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। উভয়পক্ষকে শান্ত রাখতে ওসি স্যার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা